ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্রলীগ মারামারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

ক্যাম্পাস বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি পালন করতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রলীগের দাবি, তারা নয়, বরং পরিষদের নেতাকর্মীরাই তাদের উপর আগে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টিএসসি প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। 

ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলায় ৩ জন গুরুতরসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে হামলার সময় সাংবাদিকদেরও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে টিএসসিতে আসে। তারা এখানে আসবেন জানতে পেরে আগে থেকেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সোখনে অবস্থান নেন। পরে বেলা এগারোটার কিছু আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সেখানে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এরকম দশ মিনিট চলে। এরপর অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তাদের  মারধর শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রথমে টিএসসি গেটে এবং পরে ডাচ চত্বর ও মিলন চত্বরে ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, তারা টিএসসিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে গেলে ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়, বিদ্রুপ করে স্লোগান দিতে থাকে। তারা চলে যেতে চাইলে তাদের ওপর কয়েকধাপে হামলা চালানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন এবং কর্মী ইউনুস গুরুতর আহত হয়েছেন। আর আরও ১০ জনের মতো আহত হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অধিকার পরিষদের এ নেতা।

ভুক্তভোগী একজন সাংবাদিক জানান, তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফরিদসহ কয়েকজন তার দিকে তেড়ে আসে। তিনি কেন ভিডিও করেছেন এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তা করে। সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তারা হয়রানি চালিয়ে যায়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এসে পরিচয় পেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত সময়ের আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ক্রিড়ানুরাগী শিক্ষার্থী বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এর বিজয় উদযাপন করতে আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করেছিলো। সেখানে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা খেলা হারাম বলে তাদের উপর হামলা চালায়। এটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। এ ধরণের উগ্রবাদী চিন্তার মাধ্যমে তারা ধর্মের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতিগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। এটি তারা কেন করছে তা আমার বোধগম্য নয়।

ছাত্রলীগ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। এছাড়াও অন্য নেতাকর্মীরা হলেন- আখতার হোসেন(২২), মামুনুর রশিদ (২৫), নুসরাত তাবাসসুম(২৫), ইব্রাহিম নিরব (২৩), সম্রাট হোসেন (২৫), সাব্বির হোসেন (২২), রুবেল হোসেন(২৬), মাসুম বিল্লাহ (২৩), ফয়সাল মোল্লা (২৫) ও রহমত উল্লাহ(২৩)।