বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস ডিজি - fire service DG

বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ওপর হামলায় মামলা

বাংলাদেশ

বঙ্গবাজারে আগুন লাগার পর অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বংশাল থানায় বাদী হয়ে মামলাটি  করে পুলিশ।

বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন বলেন, বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নি নির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ও সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ জনকে। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে ভাঙচুরের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বংশাল থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

এদিকে, ৩ দিনেও বঙ্গবাজারের অগ্নিনির্বাপণ হয়নি।

পোড়া কাপড়ের নিচে এখনো আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ডাম্পিংয়ের কাজ করতে গিয়ে আগুনের দেখা পাচ্ছেন। যেসব জায়গায় আগুন পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো নির্বাপণের কাজ চলছে।

পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া কাপড়ের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বঙ্গবাজার এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

এখনো বঙ্গবাজার এলাকায় কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

ফায়ার সদস্যরা বলছেন, বঙ্গবাজার মার্কেটে এখন আর আগুন না থাকলেও মাঝে মধ্যে অল্প ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। তবে এনেক্সকো টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এখনো মাঝেমধ্যে ছোট ছোট আগুন দেখা যাচ্ছে মালামাল সরানোর সময়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এনেক্সকো টাওয়ারে পুড়ে যাওয়া ও অক্ষত থাকা মালামাল সরাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা। কেউ কেউ ওপর থেকে কাপড়ের বস্তা নিচে ফেলছেন। আবার কেউ মাথায় করে নিচে নামাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ কাপড়ই পুড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের ফেলে রাখা পোড়া কাপড়ের স্তূপ জমছে এনেক্সকো ভবনের সামনে। এই পোড়া কাপড়ের স্তূপ থেকে হতদরিদ্র মানুষেরা বেছে বেছে তুলনামূলক কম পোড়া কাপড় নিজেদের জন্য নিচ্ছেন।

সরজমিন আরও দেখা যায়, বঙ্গবাজার মার্কেটের এক পাশের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করেছে পুলিশ। এনেক্সকো মার্কেটের সামনে থেকে বঙ্গবাজার মার্কেটগামী রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। ফলে এই রাস্তা দিয়ে বঙ্গবাজার মার্কেট এবং এনেক্সকো টাওয়ারের সামনে দিয়ে কেউই প্রবেশ করতে পারছেন না।

ব্যবসায়ী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা ১১টা পর্যন্ত বঙ্গবাজার মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ থেকে অনেক মানুষ পোড়া কাপড় ও টিন-লোহা নিয়ে যাচ্ছিলেন।

পরে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে সবাইকে সরিয়ে দিয়েছে এবং মার্কেট এলাকায় সর্বসাধারণের যাতায়াত সীমিত করেছে।