Benapole Municipal বেনাপোল পৌরসভা

ঠুনকো অজুহাতে ৮ বছর ঝুলে আছে বেনাপোল পৌর নির্বাচন

বাংলাদেশ

বেনাপোল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। এজন্য যশোরের বেনাপোল পৌরসভা দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। অথচ সীমানা জটিলতার মতো ঠুনকো অজুহাতে প্রায় ৮ বছর ধরে ঝুলে আছে বেনাপোল পৌর নির্বাচন।

প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে বেনাপোল পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে প্রায় এক বছর। ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগের প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। আবারও নতুন করে ছয় মাসের জন্যে প্রশাসকের দায়িত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসকের দৈনন্দিন কাজের পর সময় পেলে পৌরসভার কাজে আসেন। ফলে পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী।

২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বেনাপোলকে পৌরসভা ঘোষণা করে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১১ সালের বেনাপোল পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা আশরাফুল আলম লিটন মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ঘোষণা করে সরকার। 

এরপর ১২ জানুয়ারি ২০১৬ সালে তার মেয়াদ শেষ হয়। নেয়া হয় নির্বাচনের উদ্যোগ। তখন সীমানা জটিলতার মামলা দায়ের করা হয়। ফলে পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত হয়ে থাকে দীর্ঘদিন।

এভাবে চলার পর স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ধারা ৮ এর সংশোধনক্রমে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন আইন, ২০২২ এর ধারা ৪ অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ বেনাপেলের পৌর পরিষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

২০০৯ এর ধারা ৪২ এর সংশোধনক্রমে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন আইন ২০২২ এর ধারা ৯ অনুযায়ী ২০২২ সালের ৫ মে বেনাপোল পৌরসভায় ছয় মাসের জন্যে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু আবারো সেই সীমানা জটিলতার নাম করে পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।

১৮ কিলোমিটার এলাকার পৌরসভায় প্রায় দশ হাজার পরিবারের এক লাখ বিশ হাজার মানুষ বসবাস করে।নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় পৌরসভার নতুন সড়ক,ড্রেন, সড়কবাতি পানি সরবরাহসহ সব ধরনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের অন্যতম পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর। সরকার এই বন্দর দিয়ে প্রতি বছর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। দীর্ঘদিন এই পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ থাকার ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বেনাপোল পৌরসভাকে হেয় হতে হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের লোক বেনাপোলে এসে যখন শুনতে পায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচন হয় না, তখন আমাদের দেশের সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে নির্বাচন করতে হবে। ঠুনকো অজুহাতে বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

যশোর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. হুসাইন শওকত (উপ-সচিব) জানান, বেনাপোল পৌরসভার সীমানা জটিলতার মামলা থাকার কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২২ সালের ৫ মে বেনাপোল পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা যেই উন্নয়ন সম্ভব সেটা প্রশাসক দিয়ে সম্ভব না। আমরা খুব দ্রুত আইনগত জটিলতা নিষ্পত্তি করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো।