Nishat al Nahian asp Bangladesh police

এএসপি নাহিয়ানের দক্ষতায় পিতা-মাতার পরিচয় পেলো এতিম শিশু

বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার: যশোর জেলার নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এর মানবিক দক্ষতা এবং সহযোগিতায় বেনাপোলের একজন সদ্য পিতা-মাতাহীন এতিম শিশু পেলো বিসিএস ক্যাডার নতুন বাবা-মায়ের পরিচয়।

জানা যায়, সম্প্রতি যশোরের বেনাপোলে ঋণের দায়ে একজন দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হয়। বাসার দরজা বদ্ধ অবস্থায় ঐ দম্পতির লাশ পাওয়া যায়। তাদের কোলজুড়ে ছিলো একটি ফুটফুটে মেয়ে বাচ্চা।

অত্যন্ত গরীব প্রয়াত এই দম্পতির বাচ্চাটির দায়িত্ব নেওয়ার মতো তেমন কোন অভিভাবক ছিলো না। অন্যদিকে বাচ্চাটির লোভী চাচা চেয়েছিলো বাচ্চাটিকে বিক্রি করে দিতে৷ কিন্তু পুলিশের তৎপরতা এবং উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার কারণে বাচ্চাটি বিক্রি করতে ব্যার্থ হন তিনি।

এমতাবস্থায় বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে পুলিশ নিঃসন্তান কোনো এক দম্পতিকে এই বাচ্চাটির দায়িত্ব দিতে চায়। অনেক খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে একজন বিসিএস ক্যাডার দম্পতি বাচ্চাটির নতুন বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ বাচ্চাটিকে তাদের হাতে তুলে দেন।

যশোর জেলার নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। নাহিয়ানের ফেসবুক স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

“ভোরবেলা ঝিকরগাছার ওসির ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। ভোরবেলার ফোন মানেই খারাপ খবর, ফোন ধরতেই জানতে পারলাম unnatural death case! ঝামেলা হতে পারে তাই ওসি বললেন, “স্যার একটু আসেন।” ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ দেখতে দেখতেই বেনাপোল থানা থেকে আরেকটি ফোন। খবর পেলাম নিজ বাসার ভিতর একসাথে স্বামী স্ত্রীর লাশ পাওয়া গিয়েছে।

দ্রুত ছুটলাম ঘটনাস্থলে, পৌঁছে দ্রুত দরজা ভেঙ্গে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতর ৬ মাসের ফুটফুটে একটি শিশু মাটিতে শুয়ে চিৎকারে করে কাঁদছে। পাশেই একই দড়িতে ঝুলে আছে শিশুটির হতভাগা মা আর বাবা।

রাতের কোন এক সময় ঋণের দায়ে জর্জরিত দম্পতি শিশুটিকে একা ফেলে দায় মুক্তি নিয়ে চলে যান পরকালে। শিশুটির ভবিষ্যতের জন্য এক খন্ড জমি বা ১ টাকাও রেখে যেতে পারেননি তার পিতামাতা। শিশুটির হতদরিদ্র নানা আর লোভী ভ্যানচালক এক চাচা ছাড়া এতিম বাচ্চাটির কেউ রইলো না এই জগতে।

ফুটফুটে বাচ্চাটার প্রতি আমার মায়া জন্মায়, স্পষ্ট দেখতে পারছিলাম বাচ্চাটার ভবিষ্যত; মায়ের মতই হয়তো হবে তার নিয়তি!

শুরুতে বাচ্চাটির দখল নেন তার ভ্যান চালক চাচা। সুন্দর মেয়ে বাচ্চা হবার কারনে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকাও নেন তিনি। আমার ও এসআই লিখন এর কঠোর বাঁধায় এবং চেয়ারম্যান এর নজরদারিতে বাচ্চা বিক্রি করতে বারবার ব্যর্থ হয় তার চাচা।

বাচ্চাটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাচ্চাটির জন্য একজন নিঃসন্তান দম্পতি খুঁজে বের করে আজকে তাদের কোলে শিশুটিকে তুলে দিলাম। শিশুটির নতুন বাবা একজন বিসিএস ক্যাডার। তিনি শিশুটিকে নিজ সন্তানের পরিচয়ে বড় করতে চান। শিশুটি ভালো থাকুক, বাবা-মায়ের ভালবাসা ও যত্নে মানুষের মত মানুষ হোক এই দোয়া রইলো।”

ফেসবুক পোস্টটির শেষে নাহিয়ান লেখেন, “বাচ্চাটির অতীত চাপা পড়ে যাক কালের ধুলোতে, থাকুক শুধু আনন্দময় ভবিষ্যৎ।”

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান মহৎ এই কাজে সহযোগিতার জন্য যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় এবং র‍্যাব এর সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন ভক্ত, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক লিখন সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

উল্লেখ্য, নাহিয়ান যশোরের নাভারন সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযান এবং মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করে সর্ব মহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি খুলনা রেঞ্জে ৫ বার এবং যশোর জেলায় ৮ বার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্প্রতি ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের অত্যন্ত সম্মানজনক পুরষ্কার “আইজি ব্যাজ” পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান আইজিপি জনাব চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় তাকে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন।