যশোর জেলা Jessore district Jashore district

যশোরের অভয়নগরে উধাও ঠিকাদার, ৩ বছর ধরে থেমে আছে ২৬ কোটি টাকার কাজ

বাংলাদেশ

যশোর জেলার অভয়নগরে ভৈরব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শংকরপাশা থেকে আমতলা সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ পড়ে রয়েছে ৩ বছর ধরে। বেহাল সড়কের ধুলায় নাকাল পথচারীরা আর চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী। এদিকে ঠিকা নেওয়ার পর কাজ না করে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

উপজেলা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওয়াপাড়া শংকরপাশা ফেরিঘাটের মোড় থেকে আমতলা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৬ কোটি টাকা। তিন বছর আগে হওয়া টেন্ডারে সড়কটির কাজ হাতে পায় এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আরও ৬ মাস আগে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ এগোয়নি ছিটেফোঁটাও। উল্টো কাজ বন্ধ হওয়ার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এলজিডি কর্তৃক ফেরিঘাটের মোড় থেকে আমতলা বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার ৯৩৪ মিটার সড়কটি সংস্কারে টেন্ডার হয় ২০২০ সালে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। গত ১১ এপ্রিল ২০২১ সড়কটির কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩ বছরে কাজ শেষ তো হয়ইনি, উল্টো ধুলো আর খানাখন্দে ভরে রয়েছে পুরো ২১ কিলোমিটার সড়ক। 

সরেজমিন দেখা যায়, নওয়াপাড়া ভাঙ্গাগেটে ভৈরব নদীর ওপর ব্রিজ হওয়াতে প্রতিনিয়ত শত শত মালবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলছে এ সড়ক দিয়ে। কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের অবস্থা চরম নাজুক। ধুলায় ধূসরিত থাকে সব সময়। নাক-মুখ চেপেও বাঁচার কোনো উপায় নেই। নাক-মুখে ধুলোবালি ঢুকে কাশতে কাশতে পেরোতে হয় রাস্তা। ধুলোর জন্য চোখ খুলে হাঁটাও দায়। ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পথচারীদের পোশাক আর শরীর। ধুলার আস্তর পড়ে রাস্তার পাশে থাকা বাড়িগুলো চেনার উপায়ও নেই।

ফেরিঘাট থেকে আমতলা পর্যন্ত পুরো ২১ কিলোমিটার রাস্তার একই অবস্থা; ধুলা আর ধুলা। যে কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন।

আতিয়ার রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এই সড়কের পাশে শত শত ঘরবাড়িতে থাকা শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে। কাজ বন্ধ প্রায় ৩ বছর। ঢাকার বিভিন্ন পরিবহন, ট্রাক ও ভারী যানবাহন ব্যাপকভাবে চলাচলের কারণে ধুলাবালি আরও বেড়েছে। 

আমজাদ হোসেন ও মান্নান বিশ্বাস নামে দুই ইজিবাইক চালক বলেন, রাস্তায় প্রচুর ধুলা থাকায় ভ্যান-রিকশা আর ইজিবাইকে কোনো যাত্রী উঠতে চায় না। খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে আমাদের পরিবার চলছে। 

এদিকে জনসমক্ষে এসেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যয় বাড়ানোর প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে এলাকা ছেড়েছে। আমতলা-নওয়াপাড়া সড়কের কোথাও কোনো কাজ চলমান আছে কি না তা জানাতে পারেনি কেউ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির প্রাক্কলন সংশোধন করে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে পাঠিয়ে দিয়ে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। কয়েক বছর ধরে চরম দুর্ভোগে কাটছে এখানকার লাখো মানুষের। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো খবর নেয়নি প্রশাসনের কোনো তদারকি সংস্থা। প্রস্তাব অনুমোদনের অজুহাতে প্রথমদিকে অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ চললেও বর্তমানে সড়কটির উন্নয়নকাজ একেবারেই বন্ধ। 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী এস এম ইয়াফি বলেন, সড়কটির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে কাজটি সমাপ্ত করার জন্য।