পঞ্চগড়ে সংঘর্ষ Panchagarh clashes

পঞ্চগড়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩ মামলায় গ্রেফতার ১৬৫

বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি মামলা করেছে পুলিশ। পঞ্চগড় সদর থানা ও বোদা থানায় করা এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে। আর নতুন করে ২৪ জনসহ মোট ১৬৫ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও জেলাজুড়ে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে নেমেছে র‌্যাব।

গত ৩ মার্চ আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বার্ষিক সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ায় শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও অসংখ্য টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি ঘটে ওইদিন। 

সংঘর্ষকালে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর, ট্রাফিক পুলিশের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে তারা। জেলা শহরে আহমদিয়াদের চারটি দোকান ও বেশ কয়েকটি বাড়িতে দেওয়া হয় আগুন। এ সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো পঞ্চগড়। সেদিন রাত ৯টার দিকে জলসা স্থগিত ঘোষণা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরদিন শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পঞ্চগড় শহর। গুজব ছড়িয়ে পড়ে ‘আহমদিয়া সম্প্রদায়ের  লোকজন দুজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। এমন গুজবে বিক্ষুব্ধ হয়ে কিছু মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় শহরের ট্রাক স্ট্যান্ডে একটি মাইক্রোবাস পুড়িয়ে দেয় তারা।

পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা বলেন, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জলসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩টি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৩টি মামলায় নতুন করে ২৪ জনসহ মোট ১৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন স্টিল ছবি যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সরকারবিরোধী দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে পরস্পর দায় চাপানোর অভিযোগ। সরকারি দলের নেতাকর্মীর বলছেন, এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত। তারা তৌহিদী জনতার আড়ালে রাজনীতির ছত্রছায়ায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। অপরদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশে সাইক্লোন হলেও বিএনপির ওপর দায় চাপায় সরকার। সেখানে পঞ্চগড়ে হামলার ঘটনা, আলামত দেখে মনে হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র নেই। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের কোনো জবাবদিহিতা নেই। পঞ্চগড়ের ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত।