Shahjalal Science and Technology University - SUST

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বন্ধ ঘোষণা

ক্যাম্পাস শিক্ষা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৫ পুলিশ সদস্য, ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দীন আহমেদ ও এক নারী পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ছেলে ও মেয়েদের হল খালি করে দিতে হবে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। পরে তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির নেতা, প্রক্টরিয়াল বডি ও কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। তারা তালা খুলে দিতে শিক্ষার্থীদের বারবার অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা অপারগতা প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডায় জড়ান। 

এ সময় কোষাধ্যক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলেন, ভেতরে অবরুদ্ধ থাকায় উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে বাসায় নিয়ে যেতে হবে। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। 

এ সময় শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে পুলিশের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়ান শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাটিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। প্রায় ২৫ মিনিট উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। 

পরে শিক্ষার্থীরা সরে গেলে তালা ভেঙে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উপাচার্যকে উদ্ধার করে পুলিশ তার বাসভবনে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে কার্যালয়ের সামনে দেখা মাত্র দৌড়ে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। শিক্ষার্থীরা তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান। উপাচার্যের সঙ্গে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিতও করেন। পরে ৫ মিনিট উভয়পক্ষে ধাক্কা-ধাক্কি চলে। এ সময় শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রাচীর তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে নিয়ে যায় উপাচার্যকে। 

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে দেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সেøাগান দিয়ে পথ অবরোধ করেছিলেন। 

এর আগে বিকাল পৌনে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মহিবুল আলম, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দীন আহমেদ, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবীরসহ অন্যান্য শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন জানিয়ে এক সপ্তাহের সময় চায়। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ সেøাগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষকরা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন। এরপর আন্দোলনকারীরা শিক্ষকদের পিছু নিয়ে সেøাগান দিয়ে চেতনা-৭১-এর সামনে গিয়ে পুনরায় ফিরে এসে উপাচার্য কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসেন।

এ সময় উপাচার্যকে কার্যালয়ের দিকে দেখা মাত্রই দৌড় দিয়ে এসে পথ অবরোধ করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তার পাশে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপাচার্যকে আইআইইসিটি ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা যায়। 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেনি। শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাও চালান। এতে তিনিসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। 

তিনি বলেন, পুলিশ আত্মরক্ষার্থে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি মানার আশ্বাস দিলেও তারা শিক্ষকদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন। এরপর উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। উপাচার্যকে রক্ষা করতে গিয় শিক্ষার্থীদের হামলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ছেলেমেয়েদের সব হল খালি করে দেওয়ার নির্দেশ। এ ছাড়াও বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরীকে দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বর্তমান প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা স্বাস্থ্যগত কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলে জানা গেছে। শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।