রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব - ramadan

রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব

ধর্ম

রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে । রোজা আমার জন্যই, আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। (বুখারি, হাদিস : ১৮৯৪)। রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব

  • আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোজার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কেয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস : ১০৩৯)
  • কেয়ামতের দিন রোজাদারদের জন্য একটি বিশেষ পানির হাউজ থাকবে, যেখানে রোজাদার ব্যতিত অন্য কারো আগমন ঘটবে না। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস : ৮১১৫)
  • যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখবে, পরে তার মৃত্যু হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৩২৪)
  • জান্নাতে একটি স্পেশাল ফটক রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। সেই গেইট দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করতে পারবে । (বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)
  • রোজাদারগণ রাইয়ান নামক গেইট দিয়ে প্রবেশ করে জান্নাতের পানীয় পান করবে। তারপর থেকে আর কখনো তাঁরা পিপাসার্ত হবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬৫)
  • রোজা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল। আল্লাহ তাআলা বলেন, রোজা হলো ঢাল। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৪৬৬৯)
  • রোজা কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, অতঃপর তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)
  • ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখলে পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ৩৮)
  • ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখলে ও তারাবি পড়লে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। (নাসাঈ, হাদিস : ২৫১৮)
  • রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। (বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

রোজাদারের জন্য স্পেশাল দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে

(১) যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়।

(২) যখন সে তার রবের সাথে মিলিত হবে তখন তার রোজার (পুরস্কার লাভের) কারণে আনন্দিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

রোজাদারগণ পরকালে সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৯)

আরও পড়ুনঃ ইতিকাফের ফজিলত ও উপকারিতা

ইফতারের সময় রোজাদার যদি দুআ করে, তাহলে তার দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫৩)

রোজা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩০৭০)

উপরোক্ত কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানা যায়, রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।