Bnp leader murder accused at Narayanganj

বিএনপি নেতার চাঞ্চল্যকর হত্যায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ১৬ বছর পর গ্রেফতার

রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আদমজী জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জসিম (৪২)কে ১৬ বছর পর গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ জানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জসিম কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ভোলাইন এলাকার আমিনুল হকের ছেলে।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান পিপিএম-বার থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি বলেন, ২০০৪ সালের ২৮ মার্চে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবুল কাশেম, আবুল বাশার রওনা দেওয়ার পথে জালকুড়িস্থ সীমা ডাইং মিলের কাছাকাছি পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি হুমায়ুন, জসিম ও অর্জুন মোটরসাইকেল যোগে তাদের বেবিটেক্সি গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামি হুমায়ুন এবং জসিম আবুল কাশেমের মাথায় পরপর দুটি গুলি করলে আবুল কাশেম ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই ঘটনায় জড়িত জসিমসহ অন্যদের নামে তৎকালীন সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের স্ত্রী রেজিয়া বেগম।

মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আট জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঘটনার পর থেকেই মামলার আসামি জসিম পলাতক থাকায় আদালত তার অনুপস্থিতেই ২০০৬ সালের ৫মে মামলাটির বিচারকার্য শেষ করে জসিমকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করে রায় দেন।

ওসি মশিউর বলেন, থানায় বহু বছর ধরে তার নামে হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাটি আমার নজরে পড়লে গতমাসে বিষয়টি নিয়ে আমি আমার পুলিশ সুপারকে অবগত করি। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে আসামি জসিমকে গ্রেফতারের কাজ শুরু করি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় তার খোঁজখবর জানার চেষ্টা করি। পরবর্তী সময়ে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার তথ্য লোকেশন যাচাই-বাছাই করতে সক্ষম হই। সেসব তথ্যের সূত্র ধরে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে আমরা নিশ্চিত হই, আসামি জসিম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ভোলাইল তার এলাকায় অবস্থান করছে এবং সে সেখানে সিএনজি অটোরিকশার চালক হিসেবে কর্মরত আছে। তখন আমরা ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই এবং জসিমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

এ মামলায় জসিম ছাড়াও হুমায়ুন নামে আরেক আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত এবং অন্য দুই আসামি মোহন ও মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার বিকেলে আসামি জসিমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিহতের স্ত্রী রেজিয়া বেগম বলেন, এ মামলার তিন নাম্বার আসামি অর্জুন পলাতক রয়েছেন। আসামি অর্জুন ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কারণে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে খুঁজে বের করার সহযোগিতা চেয়েছি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জসিমকে গ্রেফতার করায় নিহতের পরিবার পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ থানার সকল পুলিশ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আদালতে ন্যায় বিচারের আশায় আসামিদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবী জানান নিহতের পরিবার।