Bagerhat ferry terminal - বাগেরহাট ফেরি ঘাট

বাগেরহাটে ফেরিঘাটের নদে গোসল করতে গেলেও দিতে হয় টাকা

বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরণখোলায় রায়েন্দা-মাছুয়া ফেরিঘাটে অবৈধভাবে টোল আদায়ের জন্য খেয়াঘাটের নির্মাণাধীন টোলঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেরি পারাপারে টোল আদায় করার জন্য এই টোলঘর নির্মাণ করছিল ইজারাদার। বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার সকালে এলাকাবাসী টোলঘরটি ভেঙে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রায়েন্দা-বড়মাছুয়া খেয়া পারাপারে বাংলা ১৪২৮ সনের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা আ. সালাম হাওলাদার ইজারা নেন। সম্প্রতি বলেশ্বর নদের এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হলে আ. সালাম ও তার লোকজন ফেরিঘাট থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টোল আদায় শুরু করেন।

পরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাক্ষরিত একটি পত্র এবং স্থানীয় কিছু নেতাকে ম্যানেজ করে তারা রাতের আঁধারে ফেরিঘাটের সড়কের ওপর বেড়া ও পাশে টোলঘর নির্মাণ করেন।

এ ঘটনায় শরণখোলা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার দুই পাড়ের হাজারো যাত্রীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে শত শত যাত্রী উত্তেজিত হয়ে ফেরিঘাটের বেড়া ও টোলঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

মালিয়া রাজাপুরের বাসিন্দা আ. জলিল হাওলাদার বলেন, আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা গ্রামে। ফেরি চালুর আগে ৬০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খেয়া ভাড়া দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু ফেরি চালু হওয়ার পরে ভাড়া ছাড়াই আমি পারাপার হই। আজ দেখি সেই খেয়ার লোকজনই আবার ফেরি ঘাটে টাকা তুলছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কাইয়ুম হাওলাদার (নাসির) বলেন, ফেরি পারাপারে টোল আদায়ের পাঁয়তারা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

রায়েন্দা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আ. রশিদ আকন বলেন, বাগেরহাট-৪ ও মঠবাড়িয়া-৩ আসনের দুই এমপি দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছেন, সেখানে টোল আদায়ের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় বসবাসরত নারী-পুরুষ গোসল করতে গেলেও তাদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইজারাদার আ. সালাম হাওলাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, ফেরিঘাটে টোল আদায়ের ঘটনায় জনগণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। তার নির্দেশে ইজারাদার সালাম হাওলাদারকে ফেরিঘাটে নির্মাণাধীন স্থাপনা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।