nailpolish hand - নেইলপলিশ

নেইলপলিশ স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়

লাইফস্টাইল

নারীদের রূপসজ্জায় বড় একটি অংশ দখল আছে নেইলপলিশ। নখে নেইলপলিশ না পরলে যেন তাদের হাতের সৌন্দর্য কোনোভাবেই বৃদ্ধি পায় না। তাইতো পোশাকের রঙের সঙ্গে রং মিলিয়ে নারীরা নেইলপলিশ পরেন। এমনকি নিজের ব্যক্তিত্বের প্রকাশও ঘটে নেইলপলিশে। কিন্তু নেইলপলিশ স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়।

তবে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, নেইলপলিশ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নেইলপলিশ নখে দেয়ার ফলে দিনের পর দিন যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে তা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এ বিষয়ে বিস্তারিত-

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাত-পায়ের যত্নের জন্য ব্যবহার করা বিউটি প্রডাক্টগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো মধ্যে থাকা টক্সিক রাসায়নিকগুলো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

এই কেমিকেলগুলো নারীর গর্ভধারণ সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের কারণ পর্যন্ত হতে পারে। নেইল কেয়ার পণ্যগুলোতে ক্ষারীয় এবং বিভিন্ন রকম ক্ষতিকর উপাদান থাকে যা ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনা। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো বয়ে আনতে পারে জীবনের ঝুঁকি। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, নেইলপলিশে থাকে টলুইন, ফর্মালডিহাইড এবং ডিবুটিল ফটালেট। এগুলো সবই টক্সিক রাসায়নিক পদার্থ যা আমাদের ত্বকের সংপর্শে একদম আসা উচিত নয়। টলুইন হলো এক প্রকারের সলভেন্ট যা নখের ওপর এক প্রকার আবরণ সৃষ্টি করে এবং নেইলপলিশের রং ধরে রাখে। 

আপনি জানলে অবাক হবেন যে, এই রাসায়নিক আপনার কেন্দ্রীয় নার্ভাস সিস্টেমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং গর্ভধারণে ঝুঁকির সৃষ্টি করে থাকে। এই সলভেন্ট আসলে পেট্রলকে ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ফর্মালডেহাইড ব্যবহার করা হয় নখ শক্ত করার জন্য এবং অন্যান্য নখের যত্নে। অথচ এটি একটি কারসিনোজেন। এর ডাক নাম বলা যায় ‘টক্সিক’, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

রাসায়নিক টলুইন, ফর্মালডিহাইড এবং ডিবুটিল ফটালেট যে কোনো নেইল কেয়ার পণ্যে থাকবেই। এই ৩ টক্সিক ট্রিও-এর সঙ্গে আরও অনেক রাসায়নিক নিত্য যোগ হচ্ছে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন তারা যারা বিউটি পার্লারগুলোতে এই রাসায়নিকগুলো নিয়ে কাজ করে থাকেন। কারণ তাদের ক্রমাগত এগুলো হাতে নিতে হয়। অসংখ্য মানুষকে তারা রোজ নেইল কেয়ার সেবা প্রদান করে থাকেন।

এসব রাসায়নিকের প্রভাবে ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকেন তারা। তাদের ত্বকের ক্ষতি হয়, চোখে সমস্যা হয় এবং বিভিন্ন এলার্জিজনিত সমস্যা হয়ে থাকে।

এই রাসায়নিকগুলো মনোযোগের সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস করাসহ অন্যান্য নিউরোলজিকাল সমস্যার জন্যও অনেক দায়ী।