Students strike ছাত্র আন্দোলন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, চেক করছে চালকের লাইসেন্স

বাংলাদেশ ক্যাম্পাস

রাজধানীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি ও নটরডেম কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আবারও রাস্তায় নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে গাড়ি থামিয়ে চালকের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখছে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় মহাখালীগামী একটি বিআরটিসি বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীরা চালকের কাগজপত্র দেখতে শুরু করে। এরপর জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা দ্রুত নেমে যান।

অন্যদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফার্মগেট এলাকায়ও রাস্তা অবরোধ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

এদিকে নটরডেম কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হত্যার বিচারসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। বেইলি রোডের মোড়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে ছাত্রছাত্রীরা।

দুপুর ১২টা থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এর জেরে রাজধানীর ওই অংশেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর দেড়টা) এখনো বিক্ষোভ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভিকারুন্নেসার শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ছাত্রীরাও অংশ নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ পর্যন্ত যত সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে সারা দেশে, তারা সবগুলোর বিচার চান। তাদের দাবি আদায় না হলে আগামী রোববার তারা আবার সড়কে অবস্থান নেবেন।

শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের জন্য ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে ভিকারুন্নেসার শিক্ষকরা কর্মসূচিতে এসে বলেন, নাঈম হত্যার বিচার তো তোমরা পেয়েছ, সেই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তোমরা এখন উঠে এসো। তোমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

এর আগে, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। নজিরবিহীন সে আন্দোলন সে বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত চলে।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দুই বাসের সংঘর্ষে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।