Dr Murad Hasan - ডাঃ মুরাদ হাসান

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতি

আগামীকালের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার রাত ৮টায় মুরাদ হাসানকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে সোমবার সকালে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মন্তব্য। এটি দল বা সরকারের নয়। এ ধরনের বক্তব্য তিনি কেন দিলেন, বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

ঢাকায় সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে করুচিপূর্ণ ফোনালাপ ফাঁসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান। রাজধানীর একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডাঃ মুরাদ হাসানের পদত্যাগ দাবি করেন।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, ডাঃ মুরাদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময়ে ছাত্রজীবনের শুরুতে ছাত্রদল করতেন। মুরাদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন৷ পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হন।

এর আগে অনলাইনে একটি সাক্ষাৎকার প্রদানকালে টকশোতে ডাঃ মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়ে বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। যা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। লাইভের এক পর্যায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবার নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া তিনি বিএনপির সাবেক নারী এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে ​‘মানসিক রোগী’ বলেও অভিহিত করে বিতণ্ডায় লিপ্ত হন।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের বয়সের চেয়ে সে এক বছরের বড়। আমার কন্যার মতো বয়সী হয়ে যে নোংরা ভাষায় আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, সেটা তো কুচিন্তনীয়। এটা আমার কাছে খুব দুঃখজনক মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের অনেক ছবি আমার কাছে চলে এসেছে।

তিনি বলেন আমি একজন চিকিৎসক। সেই হিসাবে তার সম্পর্কে আমার যে অবজারভেশন, সেটা আমি বলেছি। সেটা ভুল হলে আমি দুঃখিত।

তবে সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার বক্তব্য, মুরাদ হাসান যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতেন, তাহলে তিনি ‘দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারতেন না।’

তিনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় নারীবাদীরা। রোববার সন্ধ্যায় নারীপক্ষের বিবৃতিতে প্রশ্ন করা হয়েছে, এ ধরনের, ‘নারীবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী কিভাবে একজন জনপ্রতিনিধি হয়েছে, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হয়েছে।

তবে মুরাদ হাসান বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে কোন ভুল করেননি। এগুলো তিনি প্রত্যাহারও করবেন না কিংবা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সরকার ও দলের উপর থেকে কোন চাপও নেই।