Chittagong Corona (Covid) News

বেশিরভাগই করোনা পজিটিভ, চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে জ্বর

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। একজন জ্বরে আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভিড় বাড়ছে জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। এদের মধ্যে যারা নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ১২টি ল্যাবে ৩ হাজার ৬৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৩৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে; যা গত সোমবারের তুলনায় করোনা শনাক্তে উচ্চ লাফ।

সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৮৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। তবে মঙ্গলবার মারা গেছেন ৩ জন। 

সিভিল সার্জন আরও বলেন, করোনা শনাক্তদের ৭৫ ভাগই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট মৃদু বলে অবহেলার সুযোগ নেই। সুস্থতার হার যদিও বেশি, মারাও যাচ্ছে। মানুষের অসতর্ক চলাফেরায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। এত দ্রুত রোগী বাড়তে আগে কখনও দেখা যায়নি। অনেক রোগী টেস্টের বাইরে রয়েছে। করোনা টেস্ট সহজলভ্য না হওয়ায় অনেকেই টেস্ট করাচ্ছেন না। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন শত শত জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভিড় করছে। পরিবারে একজনের জ্বর হলে অন্য সদস্যরাও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের নমুনা টেস্ট করার জন্য দেওয়া হচ্ছে। তবে উপসর্গ দেখে দেওয়া ওষুধ খেয়ে বেশিরভাগ সুস্থ হয়ে ওঠায় অনেকে টেস্ট করাচ্ছেন না। টেস্ট যারা করাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, নতুন বছরের শুরু থেকে করোনা সংক্রমণ ঝড়োগতিতে এগোচ্ছে। জানুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত ১১ হাজারের কাছাকাছি করোনা শনাক্ত হয়েছেন

অথচ এর আগের তিন মাসে ১ হাজার রোগীও শনাক্ত হয়নি। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণে গতি পেয়েছে। প্রতিদিনই শনাক্তের হার বাড়ছে। শিথিল বিধিনিষেধের কারণে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে, সেই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।