LPG silinder Gas এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস

গ্যাসের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ

বাংলাদেশ

প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বাড়িয়ে ১২ টাকা ৪৭ পয়সা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি (মূল্যায়ন) কমিটি। এখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ৩৬ পয়সায়। সোমবার রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবিত দামের ওপর গণশুনানিতে এ সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই শুনানি করে। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে বলা হয়, পেট্রোবাংলার ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির হিসাব ধরে গ্যাসের পাইকারি ব্যয় (২০২২ সালে প্রতি ঘনমিটার) ১৫.৩০ টাকা পড়বে, এ জন্য গ্যাসের প্রতি ঘনমিটার ২০ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। কিন্তু কারিগরি কমিটি বলছে, এই পরিমাণ এলএনজি এখন আমদানিই হচ্ছে না। সুতরাং বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি মনে করছে এই ব্যয় দাঁড়াবে ১২.৪৭ টাকা। কমিটির পক্ষ থেকে মূল্যায়ন কমিটির প্রধান দিদারুল আলম বলেন, আমরা ২০২১-২২ অর্থবছরের গ্যাস আমদানির রিয়েল ডাটা যাচাই করেছি। সে হিসাবেই এই দামের সুপারিশ করেছি।

শুনানির শুরুতে বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, বিইআরসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করে আসছে। কমিশন হচ্ছে আধাবিচারিক ব্যবস্থা, এখানে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে দেশে। এর মধ্যে দেশের ক্ষেত্রগুলো থেকে ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট তোলা হচ্ছে। আমদানি করা হচ্ছে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্পট মার্কেট থেকে আমদানি হচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকিটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে কিনে আনা হচ্ছে।

কারিগরি কমিটি তাদের রিপোর্টে দেখিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে দৈনিক ৯৯.৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। যা মোট গ্যাসের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশের মতো। বিদায়ি অর্থবছরে গ্যাসের মিশ্রিত ব্যয় ২.৪০ টাকা কমে ১০.১২ টাকায় নেমে এসেছে।

এখন এই ৩ শতাংশ গ্যাসের জন্য দাম বাড়ানোর ঘোর বিরোধিতা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অন্যান্য উৎসের গ্যাসের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে, এখন ৩ শতাংশ গ্যাসের জন্য অবিশ্বাস্য দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোক্তারা এই মুহূর্তে দাম না বাড়ানোর পক্ষে মতামত দিয়েছে।

সর্বশেষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশে (২০১৯ সালে) পাইকারি দর প্রতি ঘনমিটার ১২.৬০ টাকা করা হয়। এর মধ্যে ইউনিট প্রতি ভর্তুকি দিয়ে ৯.৩৭ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয় বিইআরসি। গ্যাসের সঞ্চালন চার্জ ৪৯ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

গ্যাসের সঞ্চালন চার্জ প্রতি ঘনমিটারে শূন্য দশমিক ৪২৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৭৩০৭ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৮৬৫৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে জিটিসিএল। এর বিপরীতে সোমবার বিকালে গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য শূন্য দশমিক ৪৮৯০ টাকা করার সুপারিশ করেছে।

শুনানিতে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) জানায়, গ্যাস ট্রান্সমিশন চার্জ (গ্যাস সঞ্চালন ট্যারিফ) প্রতি ঘনমিটার ০.৪২৩৫ টাকা হতে আবেদন অনুযায়ী ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৭৩০৭ এবং শূন্য দশমিক ৮৬৫৮ টাকায় বৃদ্ধি করা না হলে জিটিসিএলের পক্ষে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কম্প্রেসর স্টেশন, গ্যাস ট্রান্সমিশন গ্রিড ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ডিভিডেন্ড এবং ডিএসএল পরিশোধসহ দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ সম্ভবপর হবে না। প্রসঙ্গত, গ্যাসের মূল দামের সঙ্গে গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ যুক্ত করেই নির্ধারণ করা হয় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম।