vaccine program at Dhaka - টিকা কার্যক্রম ঢাকা

গণটিকার দুই দিনে দেওয়া হলো ১ কোটি ২৩ লাখ ডোজ

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য

রাজধানীসহ সারাদেশে গণটিকা কার্যক্রমের শেষ দিনেও টিকা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম। কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি ছাড়াই অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যেই টিকা নিতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীর একাধিক টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, টিকাপ্রত্যাশীরা লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিয়েছেন। নেই কোনো অভিযোগ ও তাড়াহুড়ো।

গত দুদিনের চেয়ে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিনেও নিবন্ধন ছাড়া এনআইডি বা জন্মসনদের ফটোকপি দিয়েই টিকা দেওয়া হয়। যাদের এনআইডি বা জন্মসনদ নেই তারা কেবল মোবাইল নম্বর দিয়েই ভ্যাকসিন নিতে দেখা গেছে। এছাড়াও ভোগান্তি ছাড়া টিকা নিতে পেরে অনেকের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। তবে হাতেগোনা কয়েকটি কেন্দ্রে কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রথম ডোজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজও চলমান রয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি ‘মেগা ক্যাম্পেইন’ হাতে নেয় সরকার। বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে দুই দিনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটির তথ্য মতে, দেশে গত দুই দিনে ১ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫০০ জন মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অফিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিন দিনের বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিনে রোববার সারা দেশে প্রায় ২৮ লাখ ডোজ (২৭ লাখ ৯৩ হাজার ১১৭ ডোজ) টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৫, দ্বিতীয় ডোজ ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৮ ও বুস্টার ডোজ নেন ৮৪ হাজার ৯০৪ জন।

এর আগের ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে সোমবার প্রথম ডোজ টিকা নেন ১ কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৫ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৩ জন। এছাড়া বুস্টার ডোজ নিয়েছেন আরও ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন। সবমিলিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই রেকর্ড ১ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫৩ ডোজ টিকা দেওয়া হয়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একদিনের জন্য বিশেষ এ কর্মসূচি চালু হলেও ওই দিন সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নেন। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় বিশেষ ক্যাম্পেইনের কার্যক্রমের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়ে সোমবার পর্যন্ত করা হয়।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্পোরেশন এলাকার ৩৫ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি গণটিকার কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ও নারীরা ভিন্ন লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিচ্ছেন। তবে গত দুদিনের চেয়ে তৃতীয় দিন মানুষের সমাগম তুলনামূলক কম।

পুরান ঢাকার ৩২ হাজী জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের টিকা নিতে আসা মো. রবিউল ইসলাম জানান,  শনিবার ভিড়ের কারণে  টিকা নিতে পারিনি। তাই আজ ভিড় কম, কোন ঝামেলা ছাড়াই টিকা নিয়েছি।

ঢাকা উত্তর সিটির কর্পোরেশন এলাকার  কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে,  সকাল থেকেই টিকা প্রত্যাশীদের কোন ভিড় নেই। যারা টিকা নিতে এসেছেন তাদের বেশির ভাগই দিনমজুর। নানা কারণে এত দিন টিকা নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। নিবন্ধন ছাড়াও এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি দিয়ে তাদের টিকা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্য বাড্ডার ব্যাপারী টাওয়ারে প্রথম দুদিনের তুলনায় টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কম হলেও এখনো অনেকেই টিকা নিতে আসছেন।

এই কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নজরুল ইসলাম নামের  বলেন, টিকা নিতে নিবন্ধন করেছি একমাস আগে এখনও মেসেজ আসেনি। তাই এতদিন টিকা নেওয়া হয়নি। আর এখন যেহেতু  ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে  টিকা দেওয়া হচ্ছে তাই মেসেজের অপেক্ষা না  কওে টিকা নিয়ে নিলাম।

রাজধানীর মিরপুর মনিপুরে কসমোপলিটন স্কুলে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, গণটিকা কার্যক্রমের শেষ দিনে সকাল ৯ টা থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হলেও উপস্থিতি ছিল কম।  বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বাড়ে। তবে গত দুই দিনের তুলনায় অনেক কম। মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় শৃঙ্খলাভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে।