Gaibandha 1 takar Bazar

‘এক টাকার বাজার’ থেকে স্বল্প আয়ের মানুষের ঈদের বাজার

বাংলাদেশ

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের গাইবান্ধা’র উদ্যোগে স্বল্প আয়ের অসহায় গরিব মানুষের জন্য রোববার (১ মে) সকালে গাইবান্ধায় এক ব্যতিক্রমী বাজার বসেছিলো। এই বাজার থেকে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ মাত্র এক টাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করেছেন। বাজারের নামকরণ করা হয়েছিলো ‘এক টাকার বাজার’।

স্বল্প আয়ের অসহায় গরিব-দুস্থ মানুষেরা মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এ বাজার থেকে ঈদের ‘স্বপ্ন সওদা’ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এক টাকায় চাল, ডাল, তেল, চিনি, মুরগী, পুঁইশাক, আলু, পটল, বরবটি, করলা, মসলা, দুধ, সেমাইসহ ১৪টি নিত্যপণ্য পেয়েছেন গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত ১শ’ নারী-পুরুষ।

রোববার শহরের ডিবি রোডে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী স্কুল মাঠে এক টাকার বাজার থেকে ঈদ উপহার হিসেবে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এই বাজারের উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক আতাউর রহমান সরকার আতা। এসময় আমাদের গাইবান্ধা সংগঠনের মানিক আল হাসান, তানজিমুল, রাশেদ রিদেন, আকিব আহসান, মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাউল সরকার, দেওয়ান নাফি, সাকিব, কাজী মুহাতামীম মুল ইব্রাহীম উদ্যোগ, লিওন প্রধান, সফল এবং অলি আহাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এক টাকার বাজার করতে আসা কয়েকজন দিনমজুর বলেন, এখন জিনিসপত্রের যে দাম, বাজারে ঢুকতে ভয় লাগে। প্রতিদিন যে কামাই করি, সেটা দিয়ে দুই-একটা পণ্য কিনতে পারি। আর এই কষ্টের সময়ে ১ টাকায় এত বাজার পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি। এসময় বাজার করতে আসা অনেক নারী-পুরুষ তাদের সন্তুষ্টির কথা জানান।

এ বিষয়ে আয়োজকরা জানান, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও চাহিদাসাপেক্ষ নামমাত্র ১ টাকার মধ্যেই এই বাজার রাখা হয়েছে। যেখানে ১ টাকায় প্রায় ৮০০ টাকার বাজার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুসারে যার যেটা চাহিদা, বাছাই করে সেটাই দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, রোজা উপলক্ষে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। এর আগের রমজান মাসেও আমরা এমন আয়োজন করেছিলাম। সেবার বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। বাজার বসার আগে যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের খুঁজে টোকেন দেওয়া হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, গ্লোবাল ভিলেজ থিউরি অনুযায়ী ছোট্ট একটি গ্রাম পরিণত করার প্রত্যয়ে ২০১৪ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু করা হয়। ২০ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়ে বর্তমানে ৫৪ হাজার সদস্যের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষকে সচেতন করা, কয়েক দফা ত্রাণ বিতরণ, অসহায়দের রক্ত যোগান, ধর্ষণ প্রতিরোধসহ সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সচেতনতা সৃষ্টি, তরুণ সমাজের মেধা বিকাশে সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন।